মুটিয়ে যাবার বিপদ অনেক

মুটিয়ে যাবার বিপদ অনেক.

আপনি কি মুটিয়ে যাচ্ছেন? বিশেষ করে আপনার উদর বা ভুঁড়ি কি স্ফীত হচ্ছে? আপনার কোমরের ব্যাসার্ধ (পুরুষ হলে) কি ৯৪ সে.মি. এবং (মেয়ে হলে) কি ৮০ সে.মি.-এর বেশি? ইদানীং আহারের পর কি বেশ ক্লান্তি বোধ করছেন? চিন্তা-চেতনাগুলো কি ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে? মেজাজ কি খিটমিটে হচ্ছে? হঠাত্ কি রেগে যাচ্ছেন?
আচ্ছা আপনার রক্তচাপ মেপে দেখুন তো। রক্তচাপ কি ১৪০/৯০ মি.মি. পারদের বেশি? এবার সকালে অভুক্ত অবস্থায় রক্তের সুগার, লিপিড প্রোফাইল (কোলেস্টেরল) এবং ইউরিক অ্যাসিড চেক করুন তো। হায় কপাল! সুগারও বেড়ে গেছে? সেই সঙ্গে বেড়েছে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল তথা এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কমে গেছে বন্ধু বা উপকারী কোলেস্টেরল তথা এইচডিএল। রক্তের ইউরিক এসিডও কি বেড়ে গেছে?
যদি উপরের ব্যাপারগুলোর যে কোনো দুটি বা তিনটি অথবা সবই আপনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তাহলে আপনি বর্তমান সভ্যতার এক মারাত্মক এপিডেমিক বা মহামারিতে ভুগছেন। এ মহামারিটির নাম মেটাবোলিক সিনড্রোম বা সিনড্রোম এক্স।
নিজের দেহে এই সিনড্রোম তৈরিতে আপনি নিজেই সক্রিয় হাওয়া দিয়েছেন। হাওয়া দিয়েছেন তিনবেলা পেট ভরে ভাত খেয়ে। প্রচুর মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, রুটি, জেলি, মাংস, মাখন, ফাস্টফুড খেয়ে। অপরিণামদর্শীর মতো প্রচুর পেপসি-কোলা পান করে। খাদ্য তালিকায় মোটেও শাকসবজি, ফলমূল রাখেননি বলে। আর সেই সঙ্গে অলস জীবনযাপন করেছেন বলে।
আপনি প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার খেয়েছেন বলে আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে গেছে স্থায়ীভাবে। আর এই বাড়তি সুগার হ্যান্ডেল করতে ইনসুলিনও নিঃসরণ হয়েছে প্রচুর। সেই অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রতিনিয়ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রক্তের সুগারকে পোড়াতে না পেরে সৃষ্টি হচ্ছে ইনসুলিন রেসিস্টেন্সের। ফলে আপনি হচ্ছেন ইনসুলিন রেসিস্টেন্স তথা টাইপ-২ ডায়বেটিসে আক্রান্ত।
নিয়মিত না হেঁটে, খেলাধুলা না করে অলস জীবনযাপন করছেন বলে আপনার রক্তের সুগার কমছে না। আপনি মুটিয়ে যাচ্ছেন। রক্তচাপ ও রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যাচ্ছে। আপনি ঝুঁকির সন্মুখীন হচ্ছেন—ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের মতো কয়েকটি মারাত্মক ব্যাধির।
মেটাবোলিক সিনড্রোম থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে—
—নিয়মিত ব্যায়াম করুন, অন্তত ঘণ্টায় তিন মাইল বেগে ৩০ মিনিট হাঁটুন।
—উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
—ওজন কমান।
—খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনুন।
—যে খাবারগুলো পরিহার করবেন সেগুলো হচ্ছে—অতিরিক্ত ভাত, রুটি, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি, আইসক্রিম, জেলি, ক্রেকারস, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, চতুষ্পদ প্রাণীর মাংস যেমন—গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া। আরও বাদ দেবেন মগজ, কলিজা, ডিমের কুসুম, ঘি, মাখন, ভেজিটেবল অয়েল তথা ডালডা, মারজারিন, গলদা চিংড়ি, আলগা লবণ ইত্যাদি।
—বেশি খাবেন শাকসবজি, ফলমূল, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, সয়াবিন, সূর্যমুখী তেল, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি।
আসুন স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে সঠিক জীবন পদ্ধতি অবলম্ব্বন করে মেটাবোলিক সিনড্রোম বা সিনড্রোম এক্সের মতো মারাত্মক অবস্থা থেকে পরিত্রাণ লাভ করি।