IslamQA – Complete vs. acceptable ghusl

Islam Question and Answer – Complete vs. acceptable ghusl.

Advertisements

Our Womenfolk & Our Gheerah

সকল প্রশংসা আল্লাহের এবং দরুদ এবং সালাম নাজিল হোক রাসুল (সা:) এর উপর।
প্রতিদিন অফিসে আসার সময় একটা নিয়মিত দৃশ্য আমাকে বেশ অনেক দিন ধরে লেখার তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু লেখা হয়ে উঠেনা। গত কয়েক শুক্রবারের আল আমিন মসজিদের খুতবা শুনে বোধ হয় আর বসে থাকা যাচ্ছেনা। এইবার লিখতেই হয়। অসৎ কাজটা দেখে না হাত দিয়ে ঠেকাই না মুখে কিছু বলি। এখন যদি কিছু নাও লেখি তাহলে ঈমানের কিছু অবশিষ্ঠ আছে বলে মনে হয়না।আল্লাহ আমাকে এবং আমাদের সকল মুসলিম ভাই বোনদেরকে এই অবস্থা হতে রক্ষা করুন। লেখা শুরু করার আগে রাসুল (সা:) এর সময়কার একটি সত্য ঘটনা উল্লেখ করে শুরু করতে চাই।.

ঈমাম বুখারী এবং মুসলিম হতে বর্ণিত আসমা বিনতে আবু বকর (রা:) বলেন, ” ……..আমি যুবায়ের (রা:) (আমার স্বামী) এর জমি থেকে খেজুরের বিচি মাথায় করে নিয়ে আসতাম। জমিটা রাসুল (সা:) তাকে দিয়েছিলেন। প্রায় দুই মাইল দুরে ছিল জমিটা।। একদিন আমি সেইখান থেকে খেজুর বিচি মাথায় নিয়ে আসছিলাম আর পথে রাসুল (সা:) এর সাথে দেখা, সাথে ছিলেন আনসারদের একটা দল। উনি আমাকে ডেকে তার উটটাকে বসালেন যাতে আমি তার পিছনে চড়তে পারি। আমি যুবায়ের (রা:) এর ঈর্ষার কথা ভাবলাম, তার স্ত্রীর ব্যাপারে সে ছিল খুব ঈর্ষাপরায়ণ। রাসুল (সা:) বুঝতে পারলেন আমি লজ্জা পাচ্ছি; তিনি ওখান থেকে চলে গেলেন। পরে আমি যুবায়ের (রা:) এর কাছে এসে বললাম যে খেজুরের বিচি মাথায় নিয়ে আসার পথে আমার রাসুল (সা:) এর সাথে দেখা হয়েছিল; তার সাথে একদল আনসার ও ছিলেন। তিনি (সা:) আমাকে দেখে তার উটটাকে বসালেন যেন আমি তার সাথে চড়তে পারি; কিন্তু আমি লজ্জা পেয়ে আপনার ঈর্ষার কথা খেয়াল করলাম। তিনি (রা:) বললেন, ” আল্লাহের কসম! তোমার মাথায় খেজুর বিচি বয়ে নিয়ে আনা তার (সা:) সাথে উটে চড়ার চেয়ে আমার জন্য বেশি কষ্টের।” আসমা বিনতে আবু বকর (রা:) বলেন, ” পরে আমার বাবা আবু বকর (রা:) আমাকে একজন ক্রীতদাস পাঠান যুবায়ের (রা:) এর ঘোড়ার যত্ন নেয়ার জন্য আর আমার মনে হলো যেন আমি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেলাম।” (ভাবার্থ)

হাদীসে অন্য জায়গাতে রাসুল (সা:) যুবায়ের (রা:) এর নিজের বাড়ির মেয়েদের নিয়ে এই ঘীরাহর (ঈর্ষাপরায়ণ হওয়ার) প্রশংসা করেছেন। এইবার আসি আমাদের কথায়। আমরা যেন ঠিক সাহাবীদের বিপরীত। নিজের বৌকে বন্ধু মহলে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আমরা রুচিশীলতার পরিচয় দেই। একজন মুরুব্বি একবার বলছিলেন, তার কোনো এক বড় ভাই তাকে তার স্ত্রীর সাথে গাড়িতে পিছনে বসার জন্য জোরাজুরি করছিলেন (আর উনি স্বামী হয়ে বসবেন ড্রাইভার এর পাশে) । ওই মুরুব্বি তাতে না করাতে ওই বড় ভাই বেজায় মন খারাপ করেছিলেন। আমরা যারা ইসলাম কে আকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছি (আল্লাহ ই ভালো জানেন) তাদের মধ্যেও এর প্রভাব কম নয়। এ নিয়েই আমার লিখতে বসা। পাবলিক বাস ব্যবহারকারী কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কেমন করে বাড়ছে সেটা নিয়ে আর এক দিন লিখব। কিন্তু যে ঘটনা সব চেয়ে বেশি কষ্ট দেয় তা হলো লোকভর্তি বাসে একজন হিজাব পরিহিতা মেয়ে যখন উঠেই বসার জায়গা না পেয়ে বেশ ইতস্তত বোধ করতে থাকেন। প্রতিবার একজন লোক বাসে উঠছে বা নামছে আর এই মুসলিম বোনের গা ঘেষে উঠছে বা নামছে; তার চেহারাতে প্রতিবারই অস্বস্তি ফুটে উঠছে। কিন্তু এই পাপের জন্য কি আল্লাহের সামনে আমাদের এই বোনদের যথেষ্ট justification আছে, বা এদের অভিবাবকদের: যারা তাদের মা, বোন, স্ত্রীদের পাঠাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে তারা হয়ে উঠেন প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ বা বিজ্ঞানী; অথবা আর একজন নোবেল বিজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান। আশ্চর্য আমাদের ইসলাম, আশ্চর্য আমাদের ঘীরাহ ( আরবিতে protective jealousy)! আমরা বার বার ভুলে যাই মেয়েদের সুসন্তান হিসাবে বড় করে সুপাত্রে পাত্রস্ত করা হলেই জান্নাতের পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে; মেয়েদের নোবেল বিজয়ী রাজনীতিবিদ, ডাক্তার বা প্রকৌশলী বানালে নয়। মেয়েদের পড়াশোনা যে আমি হারাম বলছি তা নয়। কিন্তু আসলেই কি আমরা পর্দার বিধান ভেঙ্গে আমাদের মেয়েদের যা পড়াচ্ছি তা দিয়ে দ্বীনের কোনো লাভ সাধিত হবে? আমরা কি আল্লাহের সামনে দাড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারব। নাকি আমাদের আল্লাহ ভীরুতা কেবল সঠিকভাবে সালাত আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
এত গেল কেবল কর্মস্থলে আর শিক্ষাঙ্গনে পৌছানোর গল্প। এরপর শুরু আর এক অধ্যায়। ছেলে মেয়ে অবাধ মেলামেশার পরিবেশেই কম বেশি আমাদের সবার কাজ করতে হয়। এ আমাদের দুরবস্থা; আল্লাহ আমাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করুন। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও ইসলাম আমাদের কোনো দিক নির্দেশনা না দিয়ে ছেড়ে দেয়নি। প্রয়োজন ছাড়া বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কথোপকথন যে বৈধ নয় তা আমাদের সকলের জানা থাকার কথা। আল্লাহ ভালো জানেন, আমার অনেক দ্বীনি ভাই আছেন যারা কর্মস্থলে এটা মেনে চলেন। কিন্তু এমন ভাই এর সংখ্যাও অল্প নয়, (বাহ্যিক ভাবে যাদেরকে দ্বীনদার মনে হয়) যারা কারণে অকারণে মহিলা সহকর্মীর সাথে হাসি ঠাট্টা না করে পারেননা। আমি আমার এই ভাইদের কে আল্লাহের দিকে আহ্বান জানাই এবং তাকে ভয় পাওয়ার অনুরোধ করি। আমাদের বোনদের কেও আমি আরো একবার স্মরণ করি দিতে চাই; আপনার অভিবাবক যদি আপনাকে একটি মোটামুটি জীবন যাপনের জন্য অর্থায়নে সক্ষম হন, তাহলে আপনার কি আসলেই ছেলে মেয়ে অবাধ মেলামেশার পরিবেশে কাজ করাটা জরুরি? পুরুষকে না হয় আল্লাহ পরিবারের আমীর করাতে তাকে ওই নষ্ট পরিবেশে কাজ করতে যেতে হয়। কিন্তু আপনি কি আসলেই এই পরিবেশে কাজ করে আল্লাহের সামনে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন? কে আপনাকে এই দায়ভার দিল?লেখাটা আর না বাড়িয়ে আমি আমার জন্য এবং সবার জন্য কিছু প্রশ্ন রেখে শেষ করছি। আশা করি আমি এবং সকলে আল্লাহের সামনে এই প্রশ্নগুলোর ন্যয় সংগত (ইসলামের দৃষ্ঠিতে) উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকব?
আপনার বাড়ির মেয়েরা যখন ঘর থেকে বিদ্যার্জনের জন্য বা কাজের জন্য যখন বের হয় তখন তাদের পর্দা রক্ষা হয়ত? নাকি তারা লোকারণ্য বাসে অন্য পুরুষদের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান, ডাক্তারী বা প্রকৌশলবিদ্যা শিখতে যায়?কর্মস্থলে বা শিক্ষাঙ্গনে আপনার বাড়ির মেয়েরা অপ্রয়োজনে সহকর্মীর সাথে আলাপ বা হাসি ঠাট্টা করে কিনা একবার দেখেছেন কি? আপনি নিজেই এই দোষে দুষ্ট ননত? ভুলে গেলে চলবেনা, কেবল বোরখার সাথে নিকাব পরলেই পর্দা হয়না।
আপনার যথেষ্ট আয় থাকা স্বত্তেও আপনার মেয়ে, স্ত্রী কি অবাধ মেলামেশার পরিবেশে কাজ করছে? আসলেই কি ওই টুকু অতিরিক্ত আয় আপনার বা তাদের খুব প্রয়োজন? এমন যদি কারো অবস্থা হয় যে তার স্ত্রী কে দিয়ে অবাধ মেলামেশার পরিবেশে কাজ না করলে তার পক্ষে চলায় সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে বিয়ের যোগ্যতা আসলে আপনার হয়নি। বিয়েকে আরো পিছিয়ে নিয়ে যান এবং যোগ্যতা অর্জন করুন। আর যদি হঠাত কোনো প্রয়োজনে বা অভাব অনটনে আপনার স্ত্রী এই কাজ করতে বাধ্য হন, তাহলে প্রথমে ইসলামিক পরিবেশ খুঁজুন। আর তা না হলে এটা নিশ্চিত করুন যে অবাধ মেলামেশার পরিবেশে পর্দার বিধান কেবল তার বোরখা পরাতেই সীমাবদ্ধ নয়।
নিজের মেয়েকে ঠিক ভাবে বড় করে তোলা বলতে কি আপনি খাদিজা (রা:) বা আইশা (রা:) এর কথা ভাবেন?নাকি তাওয়াক্কুল কারমান এর মত একজন নারী নেত্রীর কথা ভাবেন?আপনার কাছে কারা বেশি সফল?
আশা করি এই বিষয়ে মেয়েদের হালাকা গুলোতে আলোচনা হবে। আল্লাহ আমাদের তার দ্বীনের উপর সুস্থির এবং দৃঢ়চিত্ত রাখুন।

Fi Amanillah
Abu Aaisha Mohammad Arif